সংক্ষেপে: হিমাচলের বেশিরভাগ অংশের জন্য সেরা মাস মার্চ থেকে জুন আর মধ্য-সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর; ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি বরফের জন্য; আর জুলাই থেকে মধ্য-সেপ্টেম্বর বর্ষা, তখন ধসে মাঝারি পাহাড়ে যাতায়াত অনিশ্চিত — কিন্তু বৃষ্টিচ্ছায়ে থাকা স্পিতি আর লাহৌলের জন্য এটিই সেরা মরসুম।
মাস ধরে ধরে
| মাস | শিমলা / মানালি / ধর্মশালা | স্পিতি ও লাহৌল | কীসের জন্য ভালো |
|---|---|---|---|
| জানুয়ারি | ঠান্ডা; মানালিতে বরফের সম্ভাবনা, কখনো শিমলাতেও | কড়া শীত, মানালির পথ বন্ধ | সোলাংয়ে স্কিইং, বরফের ছুটি, কিন্নৌর হয়ে শীতের স্পিতি ট্যুর |
| ফেব্রুয়ারি | ঠান্ডা, তুষারপাত সম্ভব | কড়া শীত | বরফ, ফাঁকা হোটেল |
| মার্চ | মনোরম দিন, ঠান্ডা রাত; রডোডেনড্রন ফোটে | এখনও খুব ঠান্ডা | হাঁটা, ত্রিউন্ড (বরফ দেখে), প্যারাগ্লাইডিং মরসুম শুরু |
| এপ্রিল | মনোরম, পরিষ্কার; বাগানে ফুল | ঠান্ডা, কিন্নৌর হয়ে রাস্তা খোলে | ঘোরাঘুরি, র্যাফটিং, বীর বিলিং |
| মে | উষ্ণ, ব্যস্ত ভরা মরসুম | কিন্নৌরের পথ খোলা; কুনজুম তখনও বরফে | সবকিছু — আগে বুক করুন; রোহতাং খুলতে পারে |
| জুন | উষ্ণ, সবচেয়ে ভিড়; মাসের শেষে প্রাক-বর্ষার ঝাপটা | কুনজুম আর চন্দ্রতাল সাধারণত খোলা | স্পিতি সার্কিট, ট্রেক, উঁচু গিরিপথ |
| জুলাই | বর্ষা: ভারী বৃষ্টি, ধস | শুকনো ও আদর্শ | স্পিতি, লাহৌল আর লেহর পথ |
| আগস্ট | বর্ষা: ভারী বৃষ্টি, ধস | শুকনো, বুনো ফুল | স্পিতি, চন্দ্রতাল, কিন্নৌর কৈলাস যাত্রা |
| সেপ্টেম্বর | বৃষ্টি কমে; সবুজ আর আকাশ পরিষ্কার হচ্ছে | চমৎকার, পরিষ্কার | ট্রেক, স্পিতি, কিন্নৌরে আপেল তোলা |
| অক্টোবর | ঝরঝরে, খুব পরিষ্কার; কুল্লু দশেরা | ঠান্ডা, মাসের শেষে গিরিপথ বন্ধ | ফটোগ্রাফি, ট্রেকিং, প্যারাগ্লাইডিং, উৎসব |
| নভেম্বর | শীতল, পরিষ্কার, নিরিবিলি | খুব ঠান্ডা | সাশ্রয়ী ভ্রমণ, ধর্মশালা, বীর |
| ডিসেম্বর | ঠান্ডা; মাসের শেষে প্রথম বরফ; বড়দিনের ভিড় | শীত | বড়দিনে শিমলা, মানালিতে বরফ |
গ্রীষ্ম (এপ্রিল থেকে জুন)
শৈলশহরগুলো গড়া হয়েছিল সমতলের গরম থেকে পালাতে, আর মে-জুনে তা স্পষ্ট: দিল্লি যখন পুড়ছে, শিমলা, মানালি আর ধর্মশালা তখন মনোরম, আর যেন গোটা ভারত একসঙ্গে এসে পড়ে। হোটেল, বাস আর ট্যুর আগে বুক করুন, ডে-ট্রিপে সকাল ৮টার আগে বেরোন, আর নগ্গর, ধরমকোট বা চৈলের মতো শান্ত ঘাঁটির কথা ভাবুন।
বর্ষা (জুলাই থেকে মধ্য-সেপ্টেম্বর)
বর্ষা বাইরের পর্বতশ্রেণিতে জোরে আছড়ে পড়ে। ধর্মশালা ভারতের সবচেয়ে বৃষ্টিবহুল জায়গাগুলোর একটি, আর কুল্লু–মানালি হাইওয়ে, কিন্নৌরের রাস্তা আর পার্বতী উপত্যকা ধস ও হড়পা বানপ্রবণ। যাতায়াত সম্ভব, তবে নমনীয়তা চাই। তবু স্পিতি আর লাহৌলের জন্য এটাই সেরা সময়, আর বন ও ঝরনা তখন সবচেয়ে সবুজ।
শরৎ (মধ্য-সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর)
অনেকের কাছে সেরা ঋতু: বৃষ্টির পর বাতাস ধোয়া-মোছা, তুষারশৃঙ্গ ঝকঝকে, আপেলবাগান ফলে নুয়ে পড়ে আর ট্রেকিং ও প্যারাগ্লাইডিংয়ের মরসুম তুঙ্গে। অক্টোবরে কুল্লু দশেরা উপত্যকা ভরিয়ে দেয় বাজনায়।
শীত (ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি)
বরফ বদলে দেয় শিমলা, মানালি আর কুফরির চেহারা, সোলাং হয়ে ওঠে স্কি এলাকা। কিছু উঁচু রাস্তা বন্ধ থাকে আর ভারী তুষারপাতের পর অটল টানেলের সংযোগ সড়ক বন্ধ হতে পারে; স্পিতিতে তখন শুধু কিন্নৌর হয়েই যাওয়া যায়, আর তা কেবল ভালোভাবে প্রস্তুত পর্যটকদের জন্য। বড়দিন-নববর্ষ বাদে হোটেলে ভালো ছাড় মেলে।
যে উৎসবগুলো মাথায় রেখে পরিকল্পনা করবেন
- লোসার (তিব্বতি নববর্ষ, ফেব্রুয়ারি/মার্চ) — ম্যাকলিওডগঞ্জ আর স্পিতির গুম্ফা।
- ঢুংরি / হিড়িম্বা দেবী মেলা (মে) — মানালি।
- মিঞ্জর মেলা (জুলাই/আগস্ট) — চম্বা।
- কুল্লু দশেরা (সাধারণত অক্টোবর) — কুল্লু।
- ইন্টারন্যাশনাল হিমালয়ান ফেস্টিভ্যাল (ডিসেম্বর) — ধর্মশালা / ম্যাকলিওডগঞ্জ।
